A new destination for fulfilling dreams টার্গেট পয়েন্ট (আর) স্কুল’

a-new-destination-for-fulfilling-dreams

A new destination for fulfilling dreams through education টার্গেট পয়েন্ট (আর) স্কুল’। শিক্ষার আলোয় স্বপ্নপূরণের নতুন ঠিকানা ‘টার্গেট পয়েন্ট (আর) স্কুল’। সময় তার নিজস্ব নিয়মে এগিয়ে চলে। দিন যায়, বছর আসে, পুরনো অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন সাফল্য, নতুন স্বপ্ন এবং নতুন সম্ভাবনা। সেই ধারাবাহিকতার পথ ধরেই ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে পঞ্চম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তুতি শুরু করেছে কালিয়াচকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘টার্গেট পয়েন্ট (আর) স্কুল’। প্রবেশিকা পরীক্ষা, প্রসপেক্টাস এবং ভর্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকীয় বক্তব্যে শিক্ষাকে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং একজন শিক্ষার্থীর সামগ্রিক ভবিষ্যৎ গঠনের প্রধান ভিত্তি হিসেবে দেখার কথা তুলে ধরা হয়েছে। আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবার, পিতৃহারা, মাতৃহারা কিংবা অনাথ শিশু এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে বেড়ে ওঠা মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দাবি, জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্য ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের সন্তানদের স্বল্প খরচে বা বিশেষ ক্ষেত্রে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা দীর্ঘদিন ধরেই চলছে।

‘টার্গেট পয়েন্ট (আর) স্কুল’-এর সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়েছে, সাধারণ পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সহযোগিতা করা হয়। সবজি বিক্রেতা, ভ্যান বা টোটো চালক, দিনমজুর এবং পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের সন্তানরাও এই প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে পরবর্তীকালে চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা শিক্ষকতার মতো পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি।

সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারের মাধ্যমিকঃ

প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক সাফল্যও সম্পাদকীয়তে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাঈদ আলম ৬৮৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মেধাতালিকায় দশম স্থান অর্জন করেছেন বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মাত্র এক নম্বরের জন্য সাকিউল ৬৮৭ নম্বর পেয়ে প্রথম দশে জায়গা করতে পারেননি। এছাড়াও সোয়েম আক্তার ৬৮৫, জামিল খান ও আব্দুল কালাম ৬৮৩ এবং আসিফউদ্দিন শেখ ৬৮১ নম্বর পেয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এই কৃতী শিক্ষার্থীদের কয়েকজন ‘হাজী মোহাম্মদ মহসিন এন্ডাওমেন্ট ফান্ড স্কলারশিপ’-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০২৬ সালের ১ আগস্ট কলকাতার সল্টলেকের একটি অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে ২০ হাজার টাকার চেক, শংসাপত্র, ব্যাগ, কলম ও বই তুলে দেওয়া হয় বলে স্কুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে টার্গেট পয়েন্ট আবাসিক স্কুল। 

উচ্চমাধ্যমিকেও উল্লেখযোগ্য ফলঃ

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাতেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানের। এ বছর মোট ১৪০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসে সকলেই উত্তীর্ণ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে শাহাবুদ্দিন আলী ৫০০-র মধ্যে ৪৮৮ নম্বর, অর্থাৎ ৯৭.৬ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের দাবি, এই ফলের ভিত্তিতে তিনি রাজ্যের মেধাতালিকায় নবম স্থান অর্জন করেছেন।
শাহাবুদ্দিনের সাফল্যের যাত্রা প্রতিষ্ঠানটির কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় তাঁর পরিবার সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তাঁকে ‘টার্গেট পয়েন্ট (আর) স্কুল’-এ ভর্তি করেছিল। পরবর্তী সময়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সহযোগিতা, পরিবারের উৎসাহ এবং তাঁর নিজের অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি একের পর এক সাফল্য অর্জন করেন।
এর আগে ২০২৪ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৮৮ নম্বর পেয়ে তিনি রাজ্যে ষষ্ঠ এবং মালদা জেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সেই সাফল্যের জন্য বিভিন্ন পুরস্কার ও বৃত্তিও পেয়েছেন তিনি। এর মধ্যে ‘পি.সি. চন্দ্র গ্রুপ’-এর ‘জহরলাল চন্দ্র মেরিট স্কলারশিপ’-এর ৫০ হাজার টাকার পুরস্কারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

“National Fit India Mission” কালিয়াচক কলেজে 

মাধ্যমিক থেকে NEET—এক শিক্ষার্থীর ত্রিমুকুট সাফল্যঃ

শাহাবুদ্দিন পরবর্তীকালে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনার পাশাপাশি NEET-UG পরীক্ষার প্রস্তুতিও চালিয়ে যান। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিকে ৪৮৮ নম্বর পাওয়ার পাশাপাশি NEET-UG পরীক্ষায় ৬১৯ নম্বর অর্জন করে সর্বভারতীয় ৫২০৪ র‍্যাঙ্ক করেছেন তিনি।
ফলে মাধ্যমিকে রাজ্যের প্রথম দশে স্থান, উচ্চমাধ্যমিকেও রাজ্যের প্রথম দশে স্থান এবং একই সময়ে NEET-UG-তে সাফল্য—এই তিনটি অর্জনকে প্রতিষ্ঠানটি শাহাবুদ্দিনের শিক্ষাজীবনের বিশেষ মাইলফলক হিসেবে দেখছে। তাঁর এই সাফল্য পরিবার, বিদ্যালয় এবং কালিয়াচক এলাকার জন্যও গর্বের বলে মনে করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বিশাল মণ্ডল-সহ কয়েকজন শিক্ষার্থী চলতি বছরে MBBS-এ সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়াও মিজানুর রহমান, ষষ্ঠীচরণ মণ্ডল, শাহনওয়াজ খান, শাহিন আক্তার, আরিজ হোসেন ও পূর্ণেন্দু মণ্ডল-সহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী বিভিন্নভাবে NEET-UG-তে সাফল্য অর্জন করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
[8/25/2026 9:46 PM] Digital Bengal TV: চিকিৎসাশিক্ষার পাশাপাশি BDS, BHMS, ANM, GNM, B.Sc Nursing, B.Pharm, D.Pharm, ল্যাব টেকনিশিয়ান এবং IIT, B.Tech, M.Tech-এর মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

Malda ঈদে মিলাদুন্নবীর প্রস্তুতি তুঙ্গে: শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে সেজে উঠছে জেলা

ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখানোর বার্তাঃ

সম্পাদকীয় বার্তায় শিক্ষার্থীদের শুধু ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নে সীমাবদ্ধ না থেকে ভবিষ্যতে IAS, IPS, IFS কিংবা WBCS-এর মতো প্রশাসনিক পরিষেবায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সমাজের পিছিয়ে থাকা ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখার প্রত্যাশাও প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, সন্তানের স্বপ্ন পূরণে তাঁদের নিয়মিত উৎসাহ ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকাদেরও শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রবেশিকা পরীক্ষা ও ভর্তি প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে তাই ‘টার্গেট পয়েন্ট (আর) স্কুল’-এর বার্তা একটাই—শিক্ষা শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়; শিক্ষা হলো ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রস্তুতি। সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে মেধা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা, শিক্ষক-অভিভাবকের সহযোগিতা এবং সঠিক দিকনির্দেশনাকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

a-new-destination-for-fulfilling-dreams a-new-destination-for-fulfilling-dreams

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *