Kaliachak in mourning ভোরের আলো ফোটার আগেই নিভে গেল পাঁচ তাজা প্রাণ

kaliachak-in-mourning

Kaliachak in mourning ভোরের আলো ফোটার আগেই নিভে গেল পাঁচ তাজা প্রাণ: শোকস্তব্ধ কালিয়াচক

যে ভোরে নতুন দিনের আলো আর জীবনের নতুন প্রত্যাশা নিয়ে ঘরে ফেরার কথা ছিল, সেই ভোরই এক লহমায় নেমে এল পাঁচ-পাঁচটি পরিবারের জীবনে ঘন অমানিশা। রায়গঞ্জের জাতীয় সড়কে এক মর্মান্তিক ও ভয়াবহ পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মালদার কালিয়াচক-১ ব্লকের নওদা-যদুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পাঁচজন বাসিন্দা। নিহতদের মধ্যে রয়েছে চার জন সম্ভাবনাময় কিশোর ও যুবকের পাশাপাশি এক পরিশ্রমী গাড়িচালক। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার খবর গ্রামে পৌঁছাতেই গোটা ভাগলপুর ও কাশিমনগরে নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা, কান্না আর এক অপূরণীয় হারানোর বেদনা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোররাত আনুমানিক তিনটে নাগাদ পোলট্রি মুরগি বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যানে করে রায়গঞ্জ থেকে কালিয়াচকের দিকে ফিরছিলেন তাঁরা। দ্রুত গতিতে ছুটে চলা ভ্যানটি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিশালাকার ডাম্পারের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, দুমড়ে-মুচড়ে যায় পিকআপ ভ্যানটি। বিকট শব্দে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিতদের উদ্ধার করে রায়গঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা সকলকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন ভাগলপুর এলাকার টুলটুল মোমিনের ছেলে হাবলু মোমিন (১৫), তেতলু মোমিনের ছেলে সিরাজ মোমিন (১৪), কানু মোমিনের ছেলে রমজান মোমিন (২৩) এবং আশরাফুল মোমিনের ছেলে সায়েম মোমিন (১৬)। আর গাড়িচালকের আসনে থাকা কাশিমনগর গ্রামের সের মোহাম্মদের ছেলে মুক্তাদুল হক (২৯) নিজের কর্তব্য পালন করতে গিয়েই প্রাণ হারালেন। এত কম বয়সে কিশোর ও যুবকদের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা।

 

স্বজনহারা পরিবারগুলির বুকফাটা আর্তনাদে এখন ভারী কালিয়াচকের বাতাস। যে ঘরগুলিতে ভোরে কাজের শেষে স্বজনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে থাকার কথা ছিল, সেখানে এখন ছেয়ে রয়েছে এক গভীর ও যন্ত্রণাদায়ক শূন্যতা। পরিবারের উপার্জনের একমাত্র আশার প্রদীপগুলিকে হারিয়ে দিশেহারা মায়েরা, প্রিয়জনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পরিজনেরা। একই এলাকার পাঁচজন মানুষের এমন আকস্মিক ও অকাল প্রয়াণ কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী।

ভোরের আলো ফোটার আগেই নি*ভে গেল পাঁচ তা/জা প্রা★ণ! 

এই কঠিন পরিস্থিতিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে গভীর সমবেদনা জানান নওদা-যদুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সঞ্জিমা বিবি ও উপপ্রধান রুবা বিবি। তাঁরা শোকাহত পরিবারগুলির পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দেন এবং জানান যে এই দুঃসময়ে পরিবারগুলিকে সবরকম সহযোগিতা করা হবে। একইসঙ্গে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় সাহায্য যাতে দ্রুত তাঁদের কাছে পৌঁছায়, সে বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন জনপ্রতিনিধিরা।

হাইকোর্টের নির্দেশের পরও জাতীয় সড়কে টোটোর দাপট 

অন্যদিকে, কীভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল এবং ঘাতক ডাম্পারের ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের অগ্রগতির পরেই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা সম্ভব হবে। তবে আইনি প্রক্রিয়া আর সরকারি আশ্বাসের মাঝেও নওদা-যদুপুরের প্রতিটি কোণে এখন শুধুই নীরবতা আর স্বজন হারানোর আকুল হাহাকার।

kaliachak-in-mourning

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *