Tobacco dust poses health risks তামাকের ধুলোয় স্বাস্থ্যঝুঁকি, জীবিকার তাগিদে বিড়ি বাঁধছেন উত্তর দারিয়াপুরের মানুষ
ফোরিদ, কালিয়াচক~ Tobacco dust poses health risks তামাকের গুঁড়ো, ধুলো আর বিড়ি বাঁধার কাজ—এই নিয়েই দিনের পর দিন জীবন কাটছে কালিয়াচকের উত্তর দারিয়াপুরের বহু পরিবারের। স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা জানা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে কাজ ছাড়তে পারছেন না শ্রমিকরা। কালিয়াচক-১ ব্লকের নওদা যদুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক লাগোয়া এই এলাকায় প্রায় দেড় হাজার পরিবারের বসবাস। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সার ও বিভিন্ন শ্বাসযন্ত্রের রোগের প্রকোপ রয়েছে। সেই সূত্রেই স্থানীয়দের মধ্যে জায়গাটি ‘ক্যান্সার গ্রাম’ নামেও পরিচিত হয়েছে। তবে সরকারি ভাবে এই দাবি যাচাই করে কোনও নির্দিষ্ট সমীক্ষা বা রোগের কারণ সংক্রান্ত নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
উত্তর দারিয়াপুরের বহু পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস বিড়ি শিল্প। সকাল হলেই বাড়ির মহিলারা তামাক, পাতা ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে বিড়ি বাঁধার কাজে বসে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ সদস্যরাও তাঁদের সহযোগিতা করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘরের মধ্যে তামাকের গুঁড়োর সংস্পর্শে কাজ করতে হয় শ্রমিকদের।
স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ শাহজাহান শেখের দাবি, তিন মাস আগে মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়ার পর পরীক্ষা করাতে গিয়ে তাঁর ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। তাঁর কথায়, ‘‘বিড়ি বাঁধার কাজ যদি শরীরের ক্ষতি করে, তা হলে কাজ বন্ধ করব কীভাবে? কাজ বন্ধ করলে সংসার চলবে কী করে?’’
একই এলাকার আফসার আলির পরিবারও দীর্ঘদিন বিড়ি বাঁধার সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। অসুস্থতার পর তাঁর পরিবারের মহিলারা কাজ ছেড়ে দিয়েছেন বলে পরিবারের দাবি। অন্যদিকে, হাজি আবদুল করিমের পরিবারও বিড়ি বাঁধার উপর নির্ভরশীল। তাঁর বক্তব্য, স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলেও সংসার চালানোর জন্য এই কাজ ছাড়া সম্ভব হচ্ছে না।
শ্রমিকদের দাবি, এক হাজার বিড়ি বাঁধলে প্রায় ২০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। ফলে সংসারের খরচ মেটাতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক বিড়ি বাঁধতে হয়। জেলা বিড়ি শ্রমিক সংগঠনের সম্পাদক মহম্মদ ইব্রাহিমের দাবি, মালদার বহু মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন তামাকের সংস্পর্শে থাকার কারণে শ্রমিকদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, যক্ষ্মা-সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার অভিযোগ রয়েছে। বিকল্প কর্মসংস্থান ছাড়া এই পেশা থেকে শ্রমিকদের সরানো কঠিন বলেও তিনি জানান।
গ্রামের নুরসেনা বিবি ও সীমা খাতুনের মতো বহু মহিলা বছরের পর বছর বিড়ি বেঁধে সংসার চালাচ্ছেন। সীমা খাতুনের দাবি, প্রায় ৩০ বছর ধরে তিনি এই কাজ করছেন। পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্বামী এবং মেয়ের পড়াশোনার খরচও তাঁকেই বহন করতে হয়। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বিড়ি বাঁধার ক্ষতি সম্পর্কে জানি। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে না। সরকার বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করলে আমরা এই পেশা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত।’’
মৃত্যুর পরও অন্যের জীবন আলোকিত করার অঙ্গীকার
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ সাগ্নিক রায়ের মতে, তামাকজাত দ্রব্যের ধোঁয়ার পাশাপাশি তামাকের গুঁড়ো ও ধুলোর দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শও স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে তামাকের সূক্ষ্ম কণা দীর্ঘ সময় শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে শ্বাসযন্ত্রের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। বাড়ির ভিতরে বিড়ি বাঁধার কাজ হলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও ওই পরিবেশের সংস্পর্শে আসতে পারেন।
এই পরিস্থিতিতে উত্তর দারিয়াপুরে বিড়ি শ্রমিকদের জন্য পৃথক কমিউনিটি হল তৈরির দাবি উঠেছে। বাসিন্দাদের বক্তব্য, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসযুক্ত পৃথক জায়গায় কাজের ব্যবস্থা হলে বাড়ির ভিতরে তামাকের ধুলো ছড়ানোর ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থানেরও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
One person arrested in Kaliachak with brown sugar
বাসিন্দাদের বক্তব্য, শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বলে বিড়ি বাঁধার কাজ বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাঁদের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। তাই শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি বিকল্প আয়ের পথ তৈরি এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার ব্যবস্থা করার দাবি উঠেছে উত্তর দারিয়াপুরে। Tobacco dust poses health risks